Green Energy Foundation of Bangladesh (GEFB)

সৌরবিদ্যুৎ দিয়ে সেচ পাম্প চালানোর বিষয়টি কমবেশি সবারই জানা। তবে এখন এটি আর শুধু সেচপাম্প চালানোর কাজেই ব্যবহার হচ্ছে না। সেচপাম্প চালিয়ে যে বিদ্যুৎ বেঁচে যাচ্ছে, তা যুক্ত হচ্ছে জাতীয় গ্রিডে। এ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে কুষ্টিয়ার মিরপুর উপজেলার ছাতিয়ান ইউনিয়নের কালিনাথপুর গ্রামে। এ উদ্যোগ সারা দেশে ছড়িয়ে দেওয়ার চেষ্টা করছে টেকসই ও নবায়নযোগ্য জ্বালানি উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (স্রেডা)।

জানা গেছে, ইউএনডিপির অর্থায়নে ও সোলার-ই-টেকনোলজির কারিগরি সহায়তায় সম্প্রতি কালিনাথপুর গ্রামের মাঠে সৌরবিদ্যুৎ-চালিত পাম্প চালু করা হয়েছে। আমন মৌসুমে চাষিরা এ পাম্প থেকে পানি নিয়ে ধানসহ অন্যান্য ফসলে ব্যবহার করছেন। তবে এখানে উৎপাদিত বিদ্যুতের পুরোটা পাম্প চালাতে প্রয়োজন হয় না। ফলে উৎপাদিত অতিরিক্ত বিদ্যুৎ এত দিন অপচয় হতো। প্রতিদিন এ প্লান্ট থেকে ২৫ কিলোওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদিত হয়। বর্তমানে ভরা সেচ মৌসুম চলায় প্রতিদিন ১৯ কিলোওয়াট বিদ্যুৎ খরচ হচ্ছে পাম্প চালাতে। বাকি যে ৬ কিলোওয়াট বিদ্যুৎ উদ্বৃত্ত থেকে যাচ্ছে, তা যোগ হচ্ছে জাতীয় গ্রিডে। তবে বছরের তিন মাস, যখন সেচপাম্প চালু থাকবে না, তখন প্রতিদিন ২৫ কিলোওয়াট বিদ্যুৎ যোগ হবে জাতীয় গ্রিডে।

প্রকল্পটি বেশ কিছু দিন ধরে চললেও কৃষকদের সচেতন করার পাশাপাশি এ  ধরনের উদ্যোগ ছড়িয়ে দেওয়ার প্রত্যয় নিয়ে সম্প্রতি আনুষ্ঠানিকভাবে এ প্রকল্পের উদ্বোধন করেন অতিরিক্ত সচিব, টেকসই ও নবায়নযোগ্য জ্বালানি উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (স্রেডা) চেয়ারম্যান মো. হেলাল উদ্দিন। এ সময় ব্রাইট গ্রিন এনার্জি ফাউন্ডেশনের (বিজিইএফ) প্রেসিডেন্ট দিপাল বড়ুয়া, সোলার-ই-টেকনোলজি বাংলাদেশের সমন্বয়কারী আহমেদুল কবির উপলসহ অন্যরা উপস্থিত ছিলেন। প্রকল্প-সংশ্লিষ্টরা জানান, বর্তমানে ইডকল স্থাপিত প্রায় ২ হাজার ১০০ সৌরবিদ্যুৎ প্লান্টের মাধ্যমে সারা দেশের সেচপাম্পগুলো সেচের কাজ চালিয়ে যাচ্ছে। বর্ষা মৌসুমে পানির প্রয়োজন না থাকলেও সৌরশক্তির উৎপাদন অব্যাহত থাকে। সৌরশক্তির ব্যবহার বাড়ানোর লক্ষ্যে স্রেডার নির্দেশনায় এই পাইলট প্রকল্পটি হাতে নেওয়া হয়, যাতে সৌর বিদ্যুতের পূর্ণ ব্যবহার হয়। অন্যদিকে জাতীয় গ্রিডে সরবরাহ করা বিদ্যুৎ থেকে প্রাপ্ত অর্থ প্রকল্পের আওতাভুক্ত কৃষকদের মধ্যে বণ্টন করা হবে। এতে উভয় পক্ষই সুফল পাবে। এ উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে সেচকাজে ব্যবহৃত ২ হাজার ১০০ সৌরবিদ্যুৎ প্লান্ট থেকে বর্ষা মৌসুমের তিন মাস কমপক্ষে ৫০ হাজার কিলোওয়াট বিদ্যুৎ জাতীয় গ্রিডে সরবরাহ করা সম্ভব হবে বলে জানান সংশ্লিষ্টরা। এদিকে কালিনাথপুর গ্রামের সৌর সেচপাম্পটির আওতায় বর্তমানে প্রায় ৪০ বিঘা জমিতে সেচ প্রদান করা হচ্ছে। আগামীতে প্রায় ৮০ বিঘা জমি সেচের আওতায় আসবে। স্থানীয় কৃষক শফিকুর রহমান ও আতিক হোসেন জানান, ‘পৌর পাম্প থেকে সেচের জন্য তারা পানি ব্যবহার করছেন। এতে খরচ বিঘায় ৮০০ টাকা কম লাগছে। স্যালো মেশিন থেকে যেখানে বিঘায় সেচ খরচ ২ হাজার টাকা, সেখানে এখন তাদের গুনতে হচ্ছে ১ হাজার ২০০ টাকা। তবে অতিরিক্ত বিদ্যুৎ বিক্রির অর্থ যখন সব খরচের সঙ্গে সমন্বয় হবে, তখন এই খরচ আরও কমতে পারে।’ সোলার-ই-টেকনোলজি বাংলাদেশের সমন্বয়কারী আহমেদুল কবির উপল বলেন, ‘দূরবর্তী স্থান থেকে তথ্য সংগ্রহের জন্য এই প্রকল্পে স্থাপন করা হয়েছে ওয়াইফাই নেটওয়ার্ক সংযুক্ত ডাটা লগার, যার মাধ্যমে সার্বক্ষণিক তথ্য সংরক্ষণ ও সংগ্রহ করা সম্ভব।’ টেকসই ও নবায়নযোগ্য জ্বালানি উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (স্রেডা) চেয়ারম্যান হেলাল উদ্দিন বলেন, পাইলট প্রকল্পটি স্থাপন করতে ব্যয় হয়েছে ১৯ লাখ টাকা। বর্তমানে সৌর সেচ প্রকল্পগুলো সর্বাধিক তিনটি ফসলের চাষ করতে পারছে। ৫০ শতাংশের বেশি সৌরশক্তি অব্যবহৃত থেকে যায়। কৃষকের চাহিদা পূরণের লক্ষ্যে অব্যবহৃত সৌরশক্তির বিকল্প ব্যবহার খুঁজে বের করার প্রয়োজনীয়তা রয়েছে। এ পদ্ধতির ফলে কেবল সৌরবিদ্যুতের ব্যবহারই বাড়ানো হচ্ছে না, এটি কৃষক এবং অর্থ লগ্নিকারী প্রতিষ্ঠান উভয়ের আর্থিক চাপ কমাবে। পাশাপাশি এর মাধ্যমে অতিরিক্ত রাজস্ব অর্জন করাও সম্ভব হবে। তাই এমন উদ্যোগ সারা দেশে ছড়িয়ে দেওয়া হবে।

তথ্য সুত্রঃ বাংলাদেশ প্রতিদিন