Green Energy Foundation of Bangladesh (GEFB)

সৌরশক্তিতে ‘ফার্স্ট নেশন’ হতে চায় বাংলাদেশ

গত কয়েক বছরে সৌরশক্তিতে বাংলাদেশ অসামান্য অগ্রগতি দেখিয়েছে। বর্তমানে দেশের দেড় কোটি মানুষ সৌর বিদ্যুতের আওতায় এসেছে। দেশের যেসব গ্রামের মানুষ বিদ্যুতের কথা চিন্তাই করতে পারেনি সেখানে এখন বাতি জ্বলছে। সেচকাজও চলছে। বার্তা সংস্থা রয়টার্সের এক প্রতিবেদনে এমন তথ্য উঠে এসেছে। সরকারি মালিকানাধীন ইন্ফ্রাস্ট্রাক্চার ডেভেলপ-মেন্ট কোম্পানি লিমিটেডের (ইডকল) বরাত দিয়ে প্রতিবেদনে বলা হয়, দেশের ১০ শতাংশ ঘর সোলার সিস্টেমের আওতায় আনা হয়েছে।
প্রতিবেদনে বলা হয়, গত বছর নওগাঁ জেলার দূরবর্তী ইসলামপুর গ্রামের মানুষ হঠাত্ বিস্মিত হন বিদ্যুতের আলো দেখে। এ গ্রামে এর আগে কখনোই বিদ্যুত্ ছিল না। জাতীয় গ্রিডের সাথে যুক্ত নন এমন অধিবাসীদের সরকার সৌর বিদ্যুতের আওতায় আনার লক্ষ্য নিয়েছে। সরকারের লক্ষ্য হচ্ছে, আগামী ২০২১ সালের মধ্যে ঘরে ঘরে বিদ্যুতের ব্যবস্থা করা। এ লক্ষ্যে সরকার আগামী ২০১৭ সালের মধ্যে ৬০ লাখ জনসাধারণের জন্য এ সোলারের মাধ্যমে ২২০ মেগাওয়াট বিদ্যুতের ব্যবস্থা করার পরিকল্পনা নিয়েছে। এ জন্য বিশ্বব্যাংকসহ উন্নয়ন সহযোগীদের সহায়তা নেয়া হচ্ছে।
প্রতিটি ঘরের ওপরে একটি ২৫০ ওয়াটের সোলার প্যানেল স্থাপন করা হয়। এটি দিনে এক কিলোওয়াট পর্যন্ত বিদ্যুত্ উত্পাদন করতে পারে। এ প্রক্রিয়ায় বিদ্যুত্ পাওয়ার পর এলাকাবাসী খুব খুশি। অনেকেই সোলার বিদ্যুত্ নিচ্ছে। গ্রামবাসী জানাচ্ছেন, সোলারের বিদ্যুত্ যায় না। কিন্তু যারা জাতীয় গ্রিডের সাথে সংযুক্ত তাদের প্রায়ই বিদ্যুত্ থাকে না। বাচ্চারাও এখন যে কোনো সময় পর্যন্ত পড়াশোনা করতে পারে। ইডকলের প্রধান মাহমুদ মল্লিকের বরাত দিয়ে প্রতিবেদনে বলা হয়, প্রতি মাসে দেশের ৫০ থেকে ৬০ হাজার পরিবার সোলার বিদ্যুতের আওতায় আসছে। গত বছরের মে মাসে ৮০ হাজারের বেশি সংযোগ দেয়া হয়েছে। ‘গ্রিন বাংলাদেশ’ তৈরির ক্ষেত্রে আমরা অনেক দূর এগিয়ে গিয়েছি।
বাংলাদেশ সোলার এন্ড রিনিউয়েব্ল এনার্জি অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি দিপালচন্দ্র বড়ুয়া বলেন, এ প্রযুক্তি যখন প্রথম ১৯৯৬ সালে আনা হয় তখন অনেক বাধা ছিল। বিশেষত সোলার প্যানেলের জন্য প্রচুর অর্থ এবং বিশেষজ্ঞের অভাব ছিল। কিন্তু ১৮ বছর পর এটি এখন অনেক সহজ হয়েছে। প্রতিবছর ১৮ কোটি মার্কিন ডলারের (২ লাখ টন কেরোসিন) সাশ্রয় হচ্ছে। আমাদের স্বপ্ন হচ্ছে, ২০২০ সালের মধ্যে সাড়ে সাত কোটি মানুষকে নবায়নযোগ্য শক্তির আওতায় আনা এবং বাংলাদেশ হবে প্রথম সমন্বিত সৌরশক্তির দেশ।
এছাড়া সরকারও সোলার প্যানেলের বিভিন্ন যন্ত্রাংশ আমদানিতে স্বল্প সুদের ঋণ দিচ্ছে। অন্যদিকে সোলারের প্রান্তিক ব্যবহারকারীদেরও সহজ শর্তে স্থাপনের সুযোগ দেয়া হচ্ছে। ১০০ ওয়াটের একটি সোলার প্যানেল স্থাপন করতে প্রায় ৫০ হাজার টাকা খরচ হলেও তিন বছরের মধ্যে কিস্তিতে এ অর্থ পরিশোধ করার সুযোগ রয়েছে।

Abul Kalam Azad