Green Energy Foundation of Bangladesh (GEFB)

বায়োগ্যাসের প্রকল্প ও ব্যবহার বাড়ছে

২০০৬ সালে বোয়ালখালীর পশ্চিম গোমদ-ী মৌসুমী বহুমুখী কৃষি খামারে বায়োগ্যাস উৎপাদন শুরু হয়। আড়াই হাজার ঘনফুটের দুটি প্রকল্পে ৫ হাজার ঘনফুট গ্যাস উৎপন্ন করে আসছে। উৎপাদিত গ্যাস খামার ও বেকারিতে ব্যবহৃত হচ্ছে।

১০ বছর আগে মৌসুমি খামারসহ গুটিকয়েক খামারি পরীক্ষামূলকভাবে বায়োগ্যাস উৎপাদন শুরু করেন। ২০০৮-২০১২ সালের পর থেকে বায়োগ্যাস প্রকল্পের সংখ্যা ক্রমান্বয়ে বাড়তে থাকে। বর্তমানে বায়োগ্যাসে অমিত সম্ভাবনা সৃষ্টি হয়েছে।

PIC-Bio-Gas-2-1-800x463
জেলা প্রাণিসম্পদ বিভাগ জানায়, পারিবারিক ও বাণিজ্যিকভাবে বায়োগ্যাস উৎপাদন শুরু হয়েছে। সবচেয়ে বেশি বায়োগ্যাস প্রকল্প রয়েছে পটিয়ায়। পটিয়ায় ৬০টি, হাটহাজারীতে ২৫টি, লোহাগাড়ায় ১৫টি, সাতকানিয়ায় ১৫টি, বোয়ালখালীতে ৫টি, রাউজানে ২০টি, রাঙ্গুনিয়ায় ১৫টি, মিরসরাই ও সীতাকু-, আনোয়ারা, বাঁশখালীতে ১০টি করে বায়োগ্যাস প্রকল্প রয়েছে।
চট্টগ্রাম জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. রিয়াজুল হক জসিম জানান, জেলায় ছোট-বড় মিলে প্রায় দুই শতাধিক বায়োগ্যাস প্রকল্প রয়েছে। এটি আমাদের জন্য সুখবর। বিশেষ করে প্রাকৃতিক গ্যাস পৌঁছেনি এমন এলাকায় বায়োগ্যাস বড় অবদান রাখছে। রান্নাবান্নায় ছাড়াও জেনারেটরের মাধ্যমে বাতি জ্বালানোর কাজেও বায়োগ্যাস ব্যবহৃত হচ্ছে।
ডা. জসিম উদ্দিন বলেন, চট্টগ্রামে সৌখিন ও শিক্ষিত খামারির সংখ্যা দিন দিন বাড়ছে। খামারিদের মধ্যে পারিবারিক ও বাণিজ্যিকভাবে বায়োগ্যাস উৎপাদনে উৎসাহ বাড়ছে। তিনি বলেন, পটিয়া, সাতকানিয়া-লোহাগাড়ায় বাড়ি-ঘরে বাণিজ্যিকভাবে গ্যাস সরবরাহ করা হচ্ছে। কয়েকটি প্রতিষ্ঠান এই খাত থেকে মাসে অর্ধলক্ষাধিক টাকা আয় করছে।
বাংলাদেশ বায়োগ্যাস ডেভেলপমেন্ট ফাউন্ডেশন (বিবিডিএফ) ও জার্মানি কারিগরি সহযোগিতা সংস্থা (জিআইজেড) যৌথভাবে চলতি বছরের মার্চ মাসে চট্টগ্রামে বায়োগ্যাসের ওপর জরিপ পরিচালনা করে। জরিপে চট্টগ্রামের বিভিন্ন উপজেলা, নগরী ও কক্সবাজারে বড় আকারের শতাধিক প্রকল্প চিহিৃত করেছে। বায়োগ্যাস এই অঞ্চলের জন্য অমিত সম্ভাবনাময়ী প্রকল্প হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।
বাংলাদেশ বায়োগ্যাস ডেভেলপমেন্ট ফাউন্ডেশনের (বিবিডিএফ) নির্বাহী সদস্য প্রকৌশলী মাহফুজুর রহমান মাসুম বলেন, এই অঞ্চলে বায়োগ্যাসের উজ্জ্বল সম্ভাবনা থাকা সত্ত্বেও সচেতনতার পিছিয়ে যাচ্ছে চট্টগ্রাম। তবে চট্টগ্রামে বড় শিল্প গ্রুপ ও নামী-দামি মিষ্টান্ন উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানগুলো নিজস্ব খামার গড়ে তুলেছে। অনেক বড় প্রতিষ্ঠান এখন বড় আকারে বায়োগ্যাস উৎপাদন শুরু করেছে।
সরেজমিন দেখা যায়, পটিয়ার পূর্ব ভাটিখাইন এলাকায় মাসুদ ডেইরি, পোলট্টি, ফিশিং ও কৃষি কমপ্লেক্সে দুটি প্ল্যান্টে ১০ হাজার ঘন ফুট গ্যাস উৎপন্ন হয়। ২০০৯ সালে এই প্রকল্প নির্মাণ করা হয়। খামারে ব্যবহারের পর উদ্বৃত্ত গ্যাস আশপাশের আড়াই শ ঘরে সংযোগ দেওয়া হয়। চুলা প্রতি ছয়শ টাকা নেয়া হয়। এটি এই অঞ্চলের সর্ববৃহৎ প্রকল্প। পটিয়ার উজিরপুর এলাকায় একটি প্রকল্পে ৩৫ ঘরে গ্যাস সংযোগ দেয়া হয়। সাতকানিয়া, লোহাগাড়া, বাঁশখালী উপজেলার বড় প্রকল্পগুলোও আবাসিকে বাণিজ্যিকভাবে গ্যাস সরবরাহ করে আসছে।
পটিয়ার মাসুদ ডেইরি, পোলট্টি, ফিশিং ও কৃষি কমপ্লেক্সের প্রকল্প কর্মকর্তা কৃষিবিদ মো. আবদুল মান্নান বলেন, খামারে ৫০ হাজার মুরগির বাচ্চা তোলা হয়েছে। শীতকাল হওয়ায় বাচ্চাগুলোকে তাপ দিতে হচ্ছে। তাই আবাসিক সংযোগ বন্ধ করে দেয়া হয়েছে। কয়েকদিন পর পুনরায় বন্ধ করে দেয়া সংযোগগুলো চালু করে দেয়া হবে।
বোয়ালখালীর মৌসুমী বহুমুখী কৃষি খামারের পরিচালক মো. মামুনুর রশিদ জানান, আশপাশ এলাকায় প্রাকৃতিক গ্যাস সংযোগ থাকায় বায়োগ্যাসের চাহিদা তেমন নেই। তাই উৎপাদিত গ্যাস ফার্ম ও বেকারিতে ব্যবহারের পর উদ্বৃত্ত গ্যাস অপচয় করে ফেলতে হচ্ছে। তবে অন্যান্য উপজেলায় প্রাকৃতিক গ্যাস সংযোগ কম থাকায় বায়োগ্যাসের চাহিদা রয়েছে।

 

তথ্য সুত্রঃ দৈনিক পূর্বকোণ