জীবাশ্ম জ্বালানির চেয়ে কম দামে সৌরবিদ্যুৎ?

বিদ্যুৎ উৎপাদনের উৎস সূর্যের আলো ও বাতাসের জুড়ি মেলা ভার। কারণ, এগুলো পরিবেশবান্ধব এবং নবায়নযোগ্য। জীবাশ্ম জ্বালানি বা ফসিল ফুয়েলের মতো ক্ষতিকর নয়।
তবে ফসিল ফুয়েলের সুবিধা হলো খরচটা কম পড়ে। সেই তুলনায় সৌরবিদ্যুৎ অথবা বায়ুশক্তির ব্যবহার ব্যয়বহুল। সে কারণেই দেশে-বিদেশে সরকার চাইলেও এ রকম পরিবেশবান্ধব বিদ্যুৎ এখনো প্রত্যাশামতো জনপ্রিয় হয়নি। কিন্তু বিশ্ব অর্থনৈতিক ফোরাম সম্প্রতি এ ব্যাপারে নতুন আশার বার্তা দিয়ে বলেছে, সৌর ও বায়ুশক্তির বিদ্যুৎ এখন ফসিল ফুয়েল থেকে উৎপাদিত বিদ্যুতের সমান দামে অথবা আরও কম দামে মিলবে।

ad061ef54fea2ae3c50b49270c00a195-C_02
বিশ্ব অর্থনৈতিক ফোরাম বলছে, ৩০টিরও বেশি দেশে জীবাশ্ম জ্বালানির পরিবর্তে বায়ু ও সৌরশক্তি থেকে জ্বালানির চাহিদা পূরণ সমান খরচে বা সস্তায় সম্ভব হয়েছে। এটা বৈশ্বিক উষ্ণায়ন প্রতিরোধের লড়াইয়ে এক আশাব্যঞ্জক খবর।
ফোরামের দীর্ঘমেয়াদি বিনিয়োগ, অবকাঠামো ও উন্নয়ন বিভাগের প্রধান মাইকেল ড্রেক্সলার বলেছেন, বৈশ্বিক উষ্ণতা বৃদ্ধির গতিকে বিপরীতমুখী করার এটাই সেরা উপায়। জ্বালানির চাহিদা পূরণে সূর্য ও বাতাস ভালো বিকল্প হিসেবে প্রমাণিত হয়েছে। আর এই প্রক্রিয়ায় শক্তি উৎপাদনের খরচ দিন দিন কমে আসছে। এটা শুধু বাণিজ্যিকভাবে টেকসই একটা বিকল্পই নয়, বিনিয়োগের ক্ষেত্রেও হতে পারে দীর্ঘমেয়াদি ও স্থিতিশীল একটি উপায়।
ফোরামের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ১০ বছর আগেও সৌরশক্তি থেকে প্রতি মেগাওয়াট-ঘণ্টা বিদ্যুৎ উৎপাদনে ৬০০ মার্কিন ডলার খরচ পড়ত। কয়লা ও প্রাকৃতিক গ্যাস পুড়িয়ে একই পরিমাণ বিদ্যুৎ উৎপাদনে খরচ হতো ১০০ ডলার। কিন্তু এখন সৌরশক্তি থেকে প্রতি মেগাওয়াট-ঘণ্টা বিদ্যুৎ উৎপাদনে খরচ হচ্ছে ১০০ ডলার। আর বায়ু থেকে বিদ্যুৎ উৎপাদনে লাগছে ৫০ ডলার। খরচ এভাবে কমে যাওয়ার ফলে এ রকম নবায়নযোগ্য শক্তি উৎপাদনে নতুন নতুন প্রতিষ্ঠান উৎসাহিত হচ্ছে।
যুক্তরাষ্ট্রের সোলার এনার্জি ইন্ডাস্ট্রি অ্যাসোসিয়েশন জানিয়েছে, গড়ে প্রতি মিনিটে দেশটিতে ১২৫টি করে সৌর প্যানেল বসানো হচ্ছে। আর ২০১৫ সালে আগের বছরের তুলনায় এ খাতে বিনিয়োগের পরিমাণ ৫ শতাংশ বেড়ে ২৮ হাজার ৬০০ কোটি ডলারে দাঁড়িয়েছে।
তবে ওয়ার্ল্ড ইকোনমিক ফোরাম বলেছে, বিনিয়োগ বাড়লেও তার এই ঊর্ধ্বগতি আশানুরূপ নয়। ফ্রান্সের রাজধানী প্যারিসে জলবায়ু সম্মেলন শেষে ঘোষণায় নবায়নযোগ্য জ্বালানিতে এক ট্রিলিয়ন (এক লাখ কোটি) ডলার বিনিয়োগের লক্ষ্যমাত্রার কথা বলা হয়েছে। কিন্তু বিশ্বজুড়ে এই লক্ষ্যমাত্রার মাত্র এক-চতুর্থাংশ বিনিয়োগ হচ্ছে।

 

তথ্য সুত্রঃ প্রথম আলো