বিমসটেক অঞ্চলে সৌরবিদ্যুৎ গ্রিড চালুর প্রস্তাব প্রধানমন্ত্রীর

বিমসটেকভুক্ত অঞ্চলে সৌরবিদ্যুৎ গ্রিড ও যাত্রীবাহী জাহাজ চালুর প্রস্তাব করেছে বাংলাদেশ। বিমসটেক সম্মেলনের শেষ দিন শুক্রবার প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা কাঠমান্ডুর হোটেল সোয়ালটি ক্রাউন প্লাজায় বিমসটেক লিডার্স রিট্রিট সেশনে আলোচনায় এ প্রস্তাব করেন। পরে পররাষ্ট্র সচিব শহীদুল হক সাংবাদিকদের এ তথ্য জানান। খবর বাসস, ইউএনবি ও বিডিনিউজের।

তিনি বলেন, আঞ্চলিক, আন্তর্জাতিক এবং বাংলাদেশের স্বার্থ-সংশ্নিষ্ট বিভিন্ন বিষয় নিয়ে সদস্য দেশের নেতাদের সঙ্গে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর আলোচনা হয়েছে। দেশগুলোর মধ্যে ব্যবসা, বিনিয়োগ, বিদ্যুৎ উৎপাদন-বিতরণ এবং বিদ্যুৎ এক দেশ থেকে সদস্য অন্য দেশে কেনাবেচাসহ সার্বিক বিষয়ে নেতারা বিস্তারিত আলোচনা করেন।

এ সব বিষয়ে পর্যালোচনা করতে এবং কোন দেশের কী পরিমাণ বিনিয়োগ হবে অথবা কোন দেশ কী পরিমাণ বিদ্যুৎ উৎপাদন ও রফতানি করতে পারবে তা ঠিক করতে একটি যৌথ ওয়ার্কিং গ্রুপ গঠনেও সম্মত হয়েছেন নেতারা।

পররাষ্ট্র সচিব বলেন, আলোচনাকালে প্রধানমন্ত্রী সমুদ্রপথে বিমসটেক ক্রুজ চালু করার প্রস্তাব করেন এবং নেপাল ও ভুটান তাদের প্রয়োজনে বাংলাদেশের সমুদ্রবন্দর ব্যবহার করতে পারে বলেও জানান। এ ছাড়া নবায়নযোগ্য জ্বালানি নিয়েও আলোচনা হয়েছে বলে শহীদুল হক জানান।

শহীদুল হক জানান, সৌরবিদ্যুতের জন্যও আঞ্চলিক গ্রিড করার প্রস্তাব করেন শেখ হাসিনা। কারণ এ অঞ্চলের অনেক দেশেই দিনে দীর্ঘ সময় ধরে সূর্যালোক পাওয়া যায়। নেপাল ও ভুটানের যথেষ্ট পরিমাণ জলবিদ্যুৎ উৎপাদনের সুযোগ রয়েছে, যা তারা প্রতিবেশী দেশগুলোতে রফতানি করতে পারে। তিনি বলেন, বিদ্যুৎ কেনাবেচার মতো বিষয়ে বিমসটেক দেশগুলো এর আগে পদক্ষেপ নেয়নি, তবে এবারের রিট্রিট সেশনে নেতাদের আলোচনার পরিপ্রেক্ষিতে এ খাতে বড় ধরনের সহযোগিতার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে।

সদস্য দেশগুলোর মধ্যে ব্যবসা ও বিনিয়োগ কিছুটা কমে যাওয়া প্রসঙ্গে শহীদুল হক বলেন, মুক্তবাণিজ্য ক্ষেত্র বাড়াতে নেতারা আলোচনা করেছেন।

দেশে ফিরেছেন প্রধানমন্ত্রী :প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দু’দিনের সরকারি সফর শেষে গতকাল শুক্রবার বিকেলে নেপাল থেকে দেশে ফিরেছেন। তিনি বিমসটেকের চতুর্থ সম্মেলনে যোগ দিতে গত বৃহস্পতিবার নেপাল যান।

প্রধানমন্ত্রী এবং তার সফরসঙ্গীদের বহনকারী বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের একটি ভিভিআইপি ফ্লাইট স্থানীয় সময় দুপুর ২টা ৩৫ মিনিটে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণ করে।

বিমসটেক সম্মেলনে ভাষণে শেখ হাসিনা মুক্ত বাণিজ্য অঞ্চল সৃষ্টি, বিনিয়োগ

ও জ্বালানি খাতে যৌথ প্রচেষ্টা, জনগণের মধ্যে যোগাযোগ এবং অর্থায়ন প্রক্রিয়া গড়ে তোলার মাধ্যমে বিমসটেক ফোরামে সহযোগিতা সম্প্রসারণের ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন।

সম্মেলনের ফাঁকে প্রধানমন্ত্রী ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি, নেপালের প্রধানমন্ত্রী কে পি শর্মা অলি ও ভুটানের অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান দাশো শেরিং ওয়াংচুকের সঙ্গে বৈঠক করেন। প্রধানমন্ত্রী এবং বিমসটেক নেতৃবৃন্দ নেপালের প্রেসিডেন্ট বিদ্যা দেবী ভাণ্ডারীর সঙ্গেও সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন।

© সমকাল

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *